"বাংলার যত লোক আছে, হঠাৎ হাপিস! ভ্যানিশ হয়ে গেল!" নির্বাচন কমিশনকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
উত্তরবঙ্গের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও ভারতীয় জনতা পার্টি-কে তীব্র আক্রমণ করে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আলুচাষিদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: উত্তরবঙ্গের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করলেন। বুধবার তাঁর একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের সভাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, যেখানে প্রার্থী রঞ্জনশীল শর্মার সমর্থনে তিনি প্রচার করেন। এই সভা থেকে তিনি যে বার্তা দিলেন, তা শুধু নির্বাচনী বক্তব্য নয়—বরং চলতি ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেভাবে হঠাৎ করে “অ্যাডজুডিকেশন” তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর এবং উদ্বেগজনক। নিজের অভিজ্ঞতা টেনে এনে তিনি দাবি করেন, রাতের মধ্যে তাঁর নিজের নামও সেই তালিকায় দেখা গেছে বলে জানতে পেরেছেন। এই ঘটনাকে তিনি কেবল প্রশাসনিক ভুল হিসেবে দেখেননি, বরং এর পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন। তাঁর কথায়, সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ পড়া বা অযথা জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে সরে এসে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ বা যথাযথভাবে তথ্য জানানো না—এই বিষয়গুলোকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, তিনি মনে করছেন এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটের আগে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধেও তাঁর আক্রমণ ছিল তীব্র। তিনি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিকে নিশানা করে বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করার চেষ্টা চলছে এবং বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে প্রভাবিত করার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এও বলেন, বাংলার মানুষ এই ধরনের কৌশল বুঝতে পারছে এবং ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।
উত্তরবঙ্গের সভাগুলোতে তাঁর আরেকটি বড় বার্তা ছিল আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সামাজিক প্রকল্প নিয়ে। তিনি তুলে ধরেন, উত্তরবঙ্গে গত কয়েক বছরে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং কেন এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যদি অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে এই প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যা সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।আবার আলুচাষিদের আশ্বাস দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে আলু চাষের। আলুচাষিরা চিন্তা করবেন না। শস্যবিমা করা আছে। সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। এটা আগে থেকে করা আছে।’’
সব মিলিয়ে, এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন,একদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা, অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে আক্রমণ চালিয়ে নিজেদের সমর্থনকে আরও দৃঢ় করা। তাঁর বক্তব্যে আবেগ, অভিযোগ এবং রাজনৈতিক কৌশল—তিনটিই মিলেমিশে ছিল, যা উত্তরবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।