প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও বাংলার "রাজনীতির চাণক্য" মুকুল রায়ের রথের চাকা থেমে গেলো ৭১ বছর বয়সে

বাংলার রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায় ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১.৩০ মিনিটে সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায় জানান,তিনি অনেকদিন ধরেই কোমায় ছিলেন।

প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও বাংলার "রাজনীতির চাণক্য" মুকুল রায়ের রথের চাকা থেমে গেলো ৭১ বছর বয়সে

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা :

বাংলার "রাজনীতির চাণক্য" ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের প্রিয় পাত্র মুকুল রায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর মুকুল রায় সাধারণ সম্পাদক হন। তখন থেকেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। অভিষেকের উত্থানের আগে অবধি তিনিই পার্টির অভিভাবক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর।জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে মুকুল রায়ের অবস্থার অবনতি হচ্ছিলো।কাউকে চিনতেও পারছিলেন না,ফলে রাজনীতি থেকেও দূরেই ছিলেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা ,মুকুল রায়,তিনি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন কংগ্রেসের সাথে ,এবং ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। তিনিই ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতীক জমা দিয়েছিলেন।  

২০১১ সালে বামেদের পতন ও তৃণমূলের উত্থানে মুকুল রায়ের অনেক বড়ো  ভূমিকা ছিল।
২০১১ সালে বামেদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার পর ,মুকুল রায় ইউপএ দ্বিতীয় সরকারের জাহাজ চলাচল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।এরপর ২০১২ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর অবধি রেল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৬ সালে মুকুল ও তৃণমূলের মাঝে মতপার্থক্য শুরু হতে থাকে ,বিশেষ করে চিটফান্ড কেলেঙ্কারির পরে এবং নারদা কাণ্ডের পর তার সাথে দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এবং ২০১৫ সালে তাকে সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনেও মুকুল রায়ের একটি  বড়ো ভূমিকা রয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন.২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে  বিজেপির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। সেইসময় বিজেপি ৪২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮ টি আসন জিতেছিল। বিজেপিতে যোগদানের পর মুকুল রায় ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেন,এবং জয়ী হয়ে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। যদিও সেই বছরেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যান।বিজেপি পার্টিকে ত্যাগ করলেও, বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ না করায় কাগজে কলমে বিজেপির বিধায়ক হিসেবেই থেকে যান তিনি। 

তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাকে বিধায়ক পদ থেকে সরানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এবং কলকাতা হাইকোর্টও তার অযোগ্যতার পক্ষে রায় দেয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।

গত কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন মুকুল রায়।তবে কঠিন সময়ে লড়াই করে দলকে জেতানো ,অথবা কূটনৈতিক বুদ্ধি দ্বারা দলের পাশে থেকে দলের উত্থানে সহযোগিতা করা,বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে মুকুল রায় একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন।