ভালোবাসার টানে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা! মনে করাবে Laapataa Ladies-এর গল্প
ভালোবাসার টানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এক যুবকের লড়াই এখন আদালতের দরজায়।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: কিছুটা লাপাত্তা লেডিসের ছোঁয়া বাস্তব জীবনে, এই ঘটনা জানলে মনে হবে, বাস্তব জীবনেও ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য দীপক কুমারের মতো মানুষ আছে! ভালোবাসার টানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আগমন যুবকের। টানা আড়াই মাস ধরে স্ত্রীকে পাওয়ার জন্য লড়াই করেছেন বাংলাদেশী যুবক। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টেই মামলা দায়ের করলেন তিনি।
প্রসঙ্গত,ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। কিন্তু কনের পরিবার তা মানতে পারেননি। বিয়ের একমাসের মাথায় মেয়েকে জোর করে ভারতে পাঠিয়ে দেন তারা। এরপর থেকে স্ত্রীকে ফিরে পেতে কলকাতায় বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেন সেই যুবক। শেষপর্যন্ত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, ওই দম্পতির নাম অরিজিৎ এবং মমি সাহা। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলায়। তবে তাদের আত্মীয়স্বজনের অনেকের ভারতে নাগরিকত্ব রয়েছে।
স্ত্রীকে ফিরে পেতে মঙ্গলবারও কলকাতা হাইকোর্টে আসেন ব্যবসায়ী অরিজিৎ। জানা যায়, দুই বছর প্রেমের পর মমির পরিবার সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না, এবং মেয়েকে ভারতে বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করছিলেন, এটা মেয়ে শুনে ফেলার পর অরিজিৎ কে বিয়ের জন্য চাপ দেয়, এরপরেই তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু এই বিয়ে মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবার, তারা তাকে জোর করে ভারতে মেয়ের পিসির বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এরপরেই একদিন পিসিকে লুকিয়ে অরিজিতের সাথে যোগাযোগ করে মমি। ৩ই জানুয়ারি ভারতে আসে অরিজিৎ। পরের দিন বিরাটিতে স্ত্রীকে আনতে যায়। কিন্তু সেখানে তাদের পরিবারের লোকজন আরিজিতকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর নিমতা থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করার পরেও কোনো সুরাহা মেলেনি। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কোনরকম সাহায্য করা হয়নি, এমনকি এফআইআরও নেয়নি পুলিশ।
তাই স্ত্রীকে ফিরে পেতে সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান অরিজিৎ। ভালোবাসার টানে সীমান্ত পেরিয়ে, আড়াই মাস বিভিন্ন ভাবে লড়াই করে, অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অরিজিৎ। এই ঘটনা লাপাত্তা লেডিসের দীপক কুমার ও ফুলকুমারীর সেই ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেয়।