LPG Crisis : গ্যাস সংকটের আশঙ্কা: আগে LPG, পরে শিল্প—নতুন বণ্টন নীতি ঘোষণা
জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় গ্যাস বণ্টনের নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র। গৃহস্থালি LPG, PNG ও CNG পেল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে সরবরাহ কমতে পারে।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস ও রান্নার গ্যাসের বণ্টন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা, এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে যে টান পড়েছে, তাই সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য চাপের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে গ্যাসের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কমে যায়, তাহলে কোন খাত আগে গ্যাস পাবে এবং কারা পরে পাবে সেটা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া জরুরি।
এই নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয়তার উপর। রান্নার গ্যাস বা LPG সিলিন্ডার যাতে সাধারণ পরিবারগুলির কাছে সহজে পৌঁছায়, সেটাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, দেশের কোটি কোটি পরিবারের রান্না নির্ভর করে এই এলপিজি সিলিন্ডারের উপর, ফলে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে। সেই কারণেই গৃহস্থালি ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাস সরবরাহকে প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি শহরাঞ্চলে যেসব বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেই পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি ব্যবস্থাকেও একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শহরের বহু পরিবার এখন রান্নার জন্য এই পিএনজি ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। তাই সরবরাহের সংকট দেখা দিলেও যাতে এই পরিষেবা পুরোপুরি ব্যাহত না হয়, তার দিকেও নজর রাখা হয়েছে। একইভাবে পরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা সিএনজি গ্যাসকেও অগ্রাধিকার তালিকার উপরের দিকে রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সার শিল্পকেও গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে(৭০% গ্যাস বরাদ্দ)। সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে বিভিন্ন উৎপাদনশিল্প, চা-শিল্প এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল হলেও, গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হলে এই খাতগুলিকে তুলনামূলকভাবে কম অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ৮০% পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বরাদ্দ করা হয়েছে এই শিল্প গুলিতে।
সবচেয়ে কম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে। পরিস্থিতি যদি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে ওঠে, তাহলে এই খাতে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
সরকার একই সঙ্গে মজুতদারি এবং কালোবাজারি রোধ করতেও সতর্ক হয়েছে। এখন থেকে ২১ দিনের মধ্যে একাধিক LPG সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে না। গ্যাসের সংকট তৈরি হওয়ার গুজব ছড়ালেই অনেক সময় বাড়তি সিলিন্ডার মজুত করার প্রবণতা দেখা যায়, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই বড় আকারের সংকট না থাকলেও ভবিষ্যতে যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে যাতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতগুলি সচল থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের আশা, আগাম এই নির্দেশিকা জারি থাকলে সংকটকালেও জ্বালানি বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।