বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘুদের উপর বাড়ছে হেনস্থা ও হামলার অভিযোগ

রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে কিছু কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের হাতে সংখ্যালঘুদের হেনস্থা হতে হচ্ছে,প্রশ্ন উঠছে এই বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলার পরিস্থিতি কি হবে?

বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘুদের উপর বাড়ছে হেনস্থা ও হামলার অভিযোগ

মধুরিমা সেনগুপ্ত ,কলকাতা: ভারতে মুসলিম হয়ে জন্মানোই কি অপরাধ?"যারা মোদিকে গালি দেন,তাদের কম্বল নেওয়ার কোনো অধিকার নেই ", কম্বল বিতরণ করতে গিয়ে এমনই এক মন্তব্য করেছেন রাজস্থানের এক বিজেপি নেতা তথা টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ সুখবীর সিং জৌনপুরিয়া।

রমজান মাস,মুসলিম সমাজের কাছে সংযম,প্রার্থনা ও মানবসেবার প্রতীক।কিন্তু এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিছু বিজেপি শাসিত রাজ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর হেনস্থা,হামলা,এবং বৈষম্য সৃষ্টি করছে কিছু কট্টর পন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।এখন প্রশ্ন উঠছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যদি এই অবস্থা হয়,তাহলে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি হবে?বিজেপি শাসিত রাজ্যে সংখ্যালঘু হেনস্থার সম্প্রতি কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো।

প্রথম ঘটনা,রাজস্থানের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে এক বিজেপি নেতা কম্বল বিতরণের সময় এক মহিলার নাম জিজ্ঞেস করার পর যখন জানতে পারেন,মহিলাটি মুসলিম,তৎক্ষণাৎ তাকে কম্বল দিতে অস্বীকার করেন,এবং কিছু বিতর্কিত বৈষম্য মূলক মন্তব্য করেন।

দ্বিতীয় ঘটনা,উত্তরপ্রদেশে রমজান মাসে যাকাত সংগ্রহ করতে গিয়ে বজরং দলের হাতে অত্যাচারিত ও হেনস্থার শিকার হন ৩ মুসলিম প্রবীণ ব্যক্তি।জানা যায়, অভিযুক্ত নিজেকে বজরং দলের নেতা হিসেবে দাবি করে,এবং এই ৩ জনের থেকে আধার কার্ড দেখতে চান.এরপরেই তাদের ধর্ম নিয়ে কটূক্তি এবং মারধর শুরু হয়।এই মারধরের ভিডিও সমাজমাধমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় দেশ জুড়ে।

তৃতীয় ঘটনা, গুজরাটে দেখা গেছে,ইফ্তারের জন্য বের হওয়া মুসলিম যুবকদের আটক করে পরিচয় জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে।ধর্ম পরিচয় জানার পর তাদের মারধর করা হচ্ছে।এছাড়াও চুরি ও গো হত্যা-র মতো কিছু অভিযোগ তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

চতুর্থ ঘটনা, মধ্যপ্রদেশের একটি শহর সিহোরা-র আজাদ চক এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিতরণের সময় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকদের বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ,কিছু কট্টরপন্থী সংগঠন এটিকে “আইনশৃঙ্খলার সমস্যা” বলে চিহ্নিত করে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ইফতার কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হন উদ্যোক্তারা।

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী,২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে নথিবদ্ধ ২৫৫টি মুসলিম-বিরোধী হেট স্পিচ ইভেন্টের মধ্যে ৮০% (২০৫টি) ঘটেছিল বিজেপি শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। পুরো বছরের হিসেবে এই হার ছিল প্রায় ৭৫% (৪৯৮টি ঘটনা)।

এবার প্রশ্ন হলো এই বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলার পরিস্থিতি কি হবে?বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আছে তৃণমূল সরকার।এরপরেও ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাকে হেনস্থার মতো ঘটনা ঘটেছে।শুভেন্দু অধিকারীর মতো কিছু বিজেপি নেতা,যারা সবসময় ধর্ম বিদ্বেষ ছড়ায়,তারা ক্ষমতায় এলে কি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন হবে?

মানবাধিকার রিপোর্ট ও সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে,যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আছে,সেখানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড প্রায়শই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।যদি সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় প্রয়োগ হয়,তবে সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়।

তবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস আলাদা,এখানে সহাবস্থান ও ধর্মনিরপেক্ষতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।প্রশ্ন হল,সরকার বদলালে সেই ঐতিহ্য টিকে থাকবে তো?আজ বাংলার সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই-ভোট কি উন্নয়নের জন্য হবে,না ধর্মের রাজনীতির জন্য?উত্তর দেবে জনগণই।