"বিজেপি যদি দিতে আসে নোট, দেবেন না ভোট, বাঁধুন জোট" বিষ্ণুপুর সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার
৩১ মার্চ বিষ্ণুপুরের সভা থেকে মমতা ব্যানার্জি নির্বাচন, উন্নয়ন, ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী বালুচরি শাড়ি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: ৩১ মার্চ বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা দেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যে যেমন রাজনৈতিক আক্রমণ ছিল, তেমনই বাংলার ঐতিহ্য ও উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন।
৩১ মার্চ বিষ্ণুপুরের সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত মানুষকে সরাসরি নিজের নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে শুধু প্রার্থী নয়, মানুষ যেন তাঁকেই তাদের প্রার্থী হিসেবে মনে করে। তাঁর কথায়, “আমাকে ২৯৪টি আসনের প্রার্থী মনে করুন”, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে রাজ্যের প্রতিটি আসনে তাঁর সরকার ও তাঁর নেতৃত্বের উপরই ভোট পড়বে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারই বাংলার উন্নয়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চায়। তাই ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন, প্রার্থী নয় বরং সরকারের কাজ ও নেতৃত্বকে বিচার করেই ভোট দিতে হবে।
সভায় তিনি কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলায় রাজনৈতিকভাবে শক্তি অর্জন করতে না পেরে নানা রকম প্রশাসনিক ও নির্বাচনী কৌশল ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মতো অভিযোগও তোলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। বিষ্ণুপুর ঐতিহাসিকভাবে মল্লভূমের শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র, আর সেই ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হল বালুচরি শাড়ি। সভায় তিনি বলেন, তাঁর সরকারের সময়েই এই ঐতিহ্যবাহী বালুচরি শাড়ি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ লাভ করেছে। এর ফলে বিষ্ণুপুরের তাঁত শিল্পী ও কারিগররা নতুন পরিচিতি পেয়েছেন এবং তাদের শিল্প সারা দেশে ও বিদেশেও পরিচিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলার শিল্প ও হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে এবং তাঁতশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বালুচরি শাড়ির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, শিল্প এবং সংস্কৃতির প্রতীক।
সভায় তিনি মানুষের কাছে উন্নয়নের নানা দিকও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গ্রামীণ রাস্তা, সামাজিক প্রকল্প, মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়নের কথা। তিনি বলেন, তাঁর সরকার বাংলার মানুষকে পাশে নিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সেই কাজ চালিয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে বিষ্ণুপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তায় তিনটি বিষয় স্পষ্ট ছিল—প্রথমত, নির্বাচনে তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্বকে সামনে রেখে ভোট চাওয়া; দ্বিতীয়ত, বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ; এবং তৃতীয়ত, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশেষ করে বিষ্ণুপুরের বালুচরি শাড়ির মতো শিল্পকে তুলে ধরা। এই সভার মাধ্যমে তিনি একদিকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে বাংলার সংস্কৃতি ও শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জোর দিয়ে বলেছেন।