IMF ঋণ নিয়েও যুদ্ধের পথে পাকিস্তান: ভারতের নিরাপত্তায় কতটা প্রভাব পড়তে পারে?

আন্তর্জাতিক ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত অবস্থাতেও আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান। প্রশ্ন উঠছে, যে দেশ IMF থেকে ঋণ নিয়ে চলছে, তারা কেন নিজেদের শেষ পুঁজি বাজি রেখে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে?

IMF ঋণ নিয়েও যুদ্ধের পথে পাকিস্তান: ভারতের নিরাপত্তায় কতটা প্রভাব পড়তে পারে?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : আন্তর্জাতিক ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত অবস্থাতেও আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান। প্রশ্ন উঠছে, যে দেশ IMF থেকে ঋণ নিয়ে চলছে, তারা কেন নিজেদের শেষ পুঁজি বাজি রেখে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে?

 

ভোর থেকেই কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ ও যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা যায়। এতটাই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

 

পাক-আফগান সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষে একে অপরের বিরুদ্ধে বড় প্রাণহানির দাবি করেছে দুই দেশ। তালিবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান জানিয়েছে, নিহত হয়েছে মাত্র ২ জন পাক সেনা এবং ৩৬ জন আফগান যোদ্ধা মারা গেছে।

 

ডুরান্ড লাইন প্রায় ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তরেখা, যা আফগানিস্তান কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ব্রিটিশ আমলে নির্ধারিত এই সীমান্ত বহু দশক ধরেই দুই দেশের উত্তেজনার মূল কারণ।গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় ছোট-বড় সংঘর্ষ চলছিল। যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।

 

এখন প্রশ্ন হলো, যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে, সেই দেশ কি ভাবে যুদ্ধের মত পরিস্থিতি তৈরি করছে?এবং ভারতের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব কতটা পড়তে পারে?

 

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক কৌশল।

একদিকে পাকিস্তান মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে বাইরের শত্রু দেখিয়ে জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেওয়া তাদের পুরনো কৌশল। অন্যদিকে একসময়ের বন্ধু তালিবান এখন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ মানছে না। তাদের শত্রু হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন নিয়ে সংঘর্ষ সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ করেছে।

 

এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের উপর সরাসরি না পড়লেও পরোক্ষভাবে পড়তে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি। পাকিস্তান যদি পশ্চিম সীমান্তে চাপে পড়ে, তবে কাশ্মীরমুখী জঙ্গি অভ্যুত্থান বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এছাড়া যুদ্ধ বাড়লে শরণার্থী সংকট, সীমান্ত বাণিজ্যে বাধা এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক স্তরেও ভারসাম্য বদলাতে পারে, যেমন চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করতে পারে।

 

সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের চেয়েও বেশি শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। কিন্তু এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তার প্রভাব শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—দক্ষিণ এশিয়ার গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই অস্থির করে তুলতে পারে।