আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বড় শুনানি-ইডি বনাম পশ্চিমবঙ্গ সংঘাতে কী বলল আদালত
আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। ED ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনি সংঘাত ঘিরে তদন্তের ক্ষমতা ও সংবিধানগত প্রশ্নে বড় পর্যবেক্ষণ আদালতের।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে আইনি সংঘাতের জেরে আজ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মামলাকে ঘিরে রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্ক, তদন্তের ক্ষমতা এবং সংবিধানগত প্রশ্ন—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন রাজনৈতিক ও আইনি তাৎপর্য তৈরি করেছে।
আজকের শুনানির শুরুতেই রাজ্যের পক্ষ থেকে ইডির হলফনামার জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের বিরোধিতা করেন এবং বলেন, ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে, ফলে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও প্রশ্ন তোলেন—আগেই সময় দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য কেন এত দিন ধরে পাল্টা জবাব জমা দেয়নি। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যেন কোনো পক্ষই অযথা সময়ক্ষেপণ না করে এবং রেকর্ডে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই শুনানি চলবে।
শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীরা ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তোলেন। তাদের যুক্তি, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার অধিকার থাকে নাগরিক বা আইনগত সত্তার; কিন্তু ইডি নিজে কোনো স্বতন্ত্র ‘জুরিস্টিক এন্টিটি’ নয়। ফলে তারা সরাসরি এই ধারা ব্যবহার করে মামলা করতে পারে কি না, তা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এই বিষয়টি সংবিধানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠনের দাবিও জানানো হয়।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের দাবি—আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশির সময় রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়, কোনো মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা এবং এর ফলে আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ইডির সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পরই বিষয়টি আদালতে পৌঁছায় এবং পরবর্তী পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সূচনা হয়।
আজকের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মামলার গ্রহণযোগ্যতা, তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সাংবিধানিক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই বিচারিকভাবে বিশ্লেষণের আওতায় আসবে। পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের বিস্তারিত সওয়াল-জবাব শোনা হবে বলে জানা গেছে।
এই মামলা এখন শুধু একটি নির্দিষ্ট তল্লাশি বা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষমতার সীমা, রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকা এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা—এই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিকেও সামনে এনে দিয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত রায় রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।