‘‘হাঁদা-ভোদা দুই ভাই, চক্রান্ত করে তাই" বিজেপির সাথে নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার

মমতা ব্যানার্জি দুবরাজপুরের জনসভা থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। ভোটার তালিকা নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের ডাক দিলেন তিনি।

‘‘হাঁদা-ভোদা দুই ভাই, চক্রান্ত করে তাই" বিজেপির সাথে নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: আজ বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুবরাজপুরের জনসভা থেকে ফের একবার সরাসরি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ, তেমনই ছিল নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার দৃঢ় হুঙ্কার।

দুবরাজপুরের মঞ্চ থেকে মমতা স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে বাংলার গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে, এটা গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। আগেও তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর লড়াই “প্রত্যেক ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য”। দুবরাজপুরেও সেই একই অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

এই সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকেও তীব্রভাবে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের অজান্তে নাম বাদ যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “এভাবে রাতের অন্ধকারে সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া।” এছাড়াও তিনি বলেন, ‘‘মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিজেপি।’’সাম্প্রতিক বিভিন্ন সভাতেও তিনি একই অভিযোগ তুলেছেন যে বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এক ধরনের সমন্বয় কাজ করছে।

মমতার বক্তব্যের সবচেয়ে জোরালো অংশ ছিল তাঁর রাজনৈতিক হুঙ্কার। তিনি স্পষ্ট বলেন, “বাংলায় আমাকে টার্গেট করলে, আমি গোটা দেশ কাঁপিয়ে দেব।” এই বক্তব্য তিনি আগেও বিভিন্ন সভায় দিয়েছেন, যা তাঁর লড়াকু রাজনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে। দুবরাজপুরের সভাতেও সেই একই সুরে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে খেলতে এলে এমন খেলব, ধরতেও পারবে না।” এই ধরনের মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই নির্বাচনকে শুধু রাজ্যের লড়াই হিসেবে নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবেই তুলে ধরছেন।

এছাড়াও তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার প্রসঙ্গও টানেন। মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট, এবং কেন্দ্রীয় নীতির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন যে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আগেই আন্দোলন করেছেন এবং রাস্তায় নেমেছেন।

সব মিলিয়ে দুবরাজপুরের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা একেবারেই স্পষ্ট, এই নির্বাচন তাঁর কাছে শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং “গণতন্ত্র বনাম ষড়যন্ত্র”-এর লড়াই। তাঁর বক্তব্যে যেমন অভিযোগ, তেমনই আত্মবিশ্বাস, আর সবচেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প।