মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩৯টি সাংসদ, রইলো পরে ১৯!সাংসদ খুঁজতে ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগবে?

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বড় একটি অংশ প্রায় ২০ জন সাংসদ গত রবিবারএনসিপিআই (NCPI)-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এনডিএকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ জন সাংসদ এই শিবির পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি লোকসভায় আলাদা বসার ব্যবস্থার দাবিও উঠেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩৯টি সাংসদ, রইলো পরে ১৯!সাংসদ খুঁজতে ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগবে?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : এক সময় বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছিল এমন এক বিশাল বটগাছ, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিরাপদ মনে করতেন। কিন্তু রাজনীতির নিয়ম বড়ই নির্মম। ভোটের ফলাফল বদলালে আনুগত্যও বদলায়, আর ক্ষমতার গন্ধ ফিকে হয়ে গেলে অনেকেরই হঠাৎ নতুন আদর্শ খুঁজে পাওয়ার অসুখ দেখা দেয়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা যেন সেই পুরনো বাড়ির মতো, যেখানে প্রথমে একটা ফাটল দেখা যায়, তারপর ধীরে ধীরে গোটা দেওয়ালটাই ভেঙে পড়তে শুরু করে। দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতার অধ্যায় শেষ হওয়ার পর দলের ভিতরে যে অসন্তোষ ছিল, তা আর চাপা থাকেনি। একের পর এক নেতা দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন। কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, কেউ চুপচাপ নতুন আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন।

গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ তো আরও নাটকীয়। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বড় একটি অংশ প্রায় ২০ জন সাংসদ গত রবিবারএনসিপিআই (NCPI)-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এনডিএকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ জন সাংসদ এই শিবির পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি লোকসভায় আলাদা বসার ব্যবস্থার দাবিও উঠেছে।

রাজনীতিতে একটা কথা খুব প্রচলিত— "সূর্য ডুবতে শুরু করলে ছায়াও সঙ্গ ছাড়ে।" তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে সেই কথাটাই বারবার মনে পড়ছে। যাঁরা একসময় দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ নতুন রাজনৈতিক ঠিকানার সন্ধানে। কেউ বলছেন দল এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, কেউ বলছেন অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নেই, আবার কেউ বলছেন তাঁদের কথা শোনার মতো কেউ আর ছিল না।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কয়েক মাস আগেও যাঁরা দাবি করতেন তৃণমূল অটুট, তাঁদেরই এখন দল বাঁচানোর জন্য সাংবাদিক বৈঠক করতে হচ্ছে। একসময় যে দল অন্য দলের ভাঙন নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করত, আজ সেই দলের ভাঙন নিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি।

আজ যে দল একসময় ২০০-র বেশি বিধায়ক নিয়ে সরকার চালাত, সেই দলকে এখন নিজেদের সাংসদ গুনে গুনে হিসাব রাখতে হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই ঠাট্টা শুরু হয়েছে— "দিদির ছাতা এত বড় ছিল যে সবাই তার নিচে দাঁড়াত, এখন সেই ছাতা ছোট হতে হতে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়েই টানাটানি।"

রাজনীতির মঞ্চে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াবে নাকি এই ভাঙন আরও বাড়বে, সেটা সময়ই বলবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, বাংলার রাজনীতিতে ২০২৬ সালের পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই অধ্যায় বহুদিন ধরে রাজনৈতিক বিজ্ঞান এবং চায়ের দোকানের আড্ডা— দু'জায়গাতেই আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।