পুরো বাদল অধিবেশনে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! কাকলির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ ওম বিড়লার

লোকসভা থেকে বাদল অধিবেশনের বাকি সময় সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ, ওম বিড়লার পদক্ষেপ এবং একুশে জুলাইয়ের বিতর্কে জানুন বিস্তারিত আপডেট।

পুরো বাদল অধিবেশনে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! কাকলির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ ওম বিড়লার

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: একদিকে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা, অন্যদিকে তার পরদিনই সংসদে বড় ধাক্কা—রাজনীতির ময়দানে ফের চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা থেকে তাঁকে চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।

কেন সাসপেন্ড হলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকসভায় মহিলা সাংসদদের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ব্যবহার এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্পিকারের তরফে বলা হয়েছে, তাঁর মন্তব্য সংসদের মর্যাদা ও শালীনতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। সেই কারণেই বাদল অধিবেশনের বাকি সময় তাঁকে লোকসভার কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ার পর ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের তিন মহিলা সাংসদ— কাকলি, শতাব্দী রায় এবং মিতালি বাগের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান কল্যাণ। এরপরেই কাকলি এবং ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর অন্য সাংসদেরা মিলে চলে যান স্পিকারের ঘরে। সূত্রের খবর, স্পিকার তাঁদের লিখিত ভাবে নিজেদের অভিযোগ জানাতে বলেন। কাকলী জানান, সংসদের ভিতরে কল্যাণ তাঁকে বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন এবং তাঁর আচরণে নারীবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কাকলি আরও দাবি করেছেন, অন্য মহিলা সাংসদদের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ থেকে স্পিকারের পদক্ষেপ

লোকসভার স্পিকারের কাছে গত মে মাসেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। সেইসময়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল। অভিযোগটি সরাসরি প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠানো হবে, নাকি আগে দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত স্পিকারের বিবেচনাধীন ছিল বলে তখন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ও সংসদীয় বিতর্কের রূপ নেয়।

সংসদে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এবং লোকসভার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগই সাসপেনশনের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই সাসপেনশনের ফলে বাদল অধিবেশনের বাকি সময় লোকসভার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে সংসদে তাঁর ভূমিকা সাময়িকভাবে বন্ধ হল, অন্যদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আপডেট হল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি সময় লোকসভা থেকে সাসপেন্ড। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং একুশে জুলাইয়ের সাম্প্রতিক বিতর্ক—সব মিলিয়ে আগামী দিনে বিষয়টি আরও কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।