এক এক করে সবাই ওপারে! ঋতব্রত শিবিরে বাড়ছে ভিড়, তৃণমূল কার? লিস্ট দেখে মাথায় হাত কালীঘাটের!

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন তৃণমূলে কারা যোগ দিলেন, কতজন বিধায়ক পাশে রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে—জানুন বিস্তারিত।

এক এক করে সবাই ওপারে! ঋতব্রত শিবিরে বাড়ছে ভিড়, তৃণমূল কার? লিস্ট দেখে মাথায় হাত কালীঘাটের!

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি পৃথক শিবির গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে নিজেদেরকেই "আসল তৃণমূল কংগ্রেস" বলে দাবি করতে শুরু করে।

জুন মাসের শুরুতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে একাধিক বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেন। প্রথমদিকে প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করা হলেও পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৮-এ পৌঁছায় বলে জানা গেছে। এই সমর্থনের ভিত্তিতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পান। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঋতব্রত শিবিরের দাবি ছিল যে ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে।

বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋতব্রত জানান যে তাঁর দলের ডেপুটি লিডার হিসেবে রয়েছেন সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহা। মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি আরও বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও দাবি করা হয়।

গত কয়েক দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ আরও একধাপ এগিয়েছে। নিউ টাউনে অনুষ্ঠিত বিদ্রোহী শিবিরের বিশেষ বৈঠকে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং বহু প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই বৈঠকেই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করা হয়। সহ-সভাপতির পদে অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষের নাম সামনে আসে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নামও ঘোষণা করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। 

সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সিদ্ধান্ত। বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকের পর বিভিন্ন মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার খবর সামনে আসে। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়, তাঁকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একই সময়ে অন্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিষেককে আনুষ্ঠানিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়নি, বরং বিদ্রোহী শিবির নিজেদের সাংগঠনিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস করেছে। ফলে এই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি এখনও রয়েছে এবং চূড়ান্ত সাংগঠনিক বা আইনি অবস্থান স্পষ্ট নয়।

আগেই শোকজ করা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, অরূপ রায় সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীকে। আর এবার শো কজ করা নেতা-নেত্রীদের বহিষ্কার করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এ ছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন 'কালীঘাট-তৃণমূল' বহিষ্কার করেছে বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন ও রথীন ঘোষকেও ।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে বর্তমান বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সাংবিধানিক ভূমিকা নেই এবং তাঁরাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন। একইসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে রাখার প্রস্তাবও দেন। অন্যদিকে মূল তৃণমূল শিবির এখনও নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতা বজায় রেখেছে বলে দাবি করে আসছে। 

ফলে জুন ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং আগামী দিনে আরও কতজন জনপ্রতিনিধি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন। এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী কয়েক মাসে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।