তৃণমূলের মিছিলে বিজেপির হামলার অভিযোগের ২৪ ঘণ্টা পরও উত্তপ্ত বাংলা! আজ কী পরিস্থিতি, গ্রেফতার হল কেউ?

কলকাতায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপির হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। কী ঘটেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা, আহত ও গ্রেফতার নিয়ে সর্বশেষ আপডেট জানুন।

তৃণমূলের মিছিলে বিজেপির হামলার অভিযোগের ২৪ ঘণ্টা পরও উত্তপ্ত বাংলা! আজ কী পরিস্থিতি, গ্রেফতার হল কেউ?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদের মিছিল। হাতে দলীয় পতাকা, মুখে স্লোগান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই কর্মসূচি পরিণত হয় রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, আদালতের অনুমতি নিয়ে বের হওয়া তাদের মিছিলে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। পাল্টা বিজেপির দাবি, তৃণমূলই উসকানি দিয়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবারও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক থামেনি।

বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব সংগঠনের উদ্যোগে বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হওয়া মিছিল হাজরা মোড়ের দিকে এগোচ্ছিল। সেই সময় একাধিক জায়গায় বিজেপি সমর্থকদের পাল্টা বিক্ষোভ, স্লোগান এবং ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কোথাও কোথাও লাঠিচার্জও করা হয় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি এবং পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি কর্মীদের মিছিলের সামনে এসে বাধা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ কার্যত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং রাজ্যে "পুলিশ রাজ" কায়েম হয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের বক্তব্য, তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে ব্যবহার করে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। সংঘর্ষের জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছে গেরুয়া শিবির।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, এই ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেছে কি না। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা গ্রেফতারের বিষয়ে কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও নিশ্চিত সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে গ্রেফতার বা আহতের সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

তবে রাজনৈতিক চাপ যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট। ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও পাল্টা আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। ফলে কলকাতার এই সংঘর্ষ এখন শুধু একটি রাজনৈতিক মিছিলের ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।