তৃণমূলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে? নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পর বড় দাবি ঋতব্রতের
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, জোড়া ফুল প্রতীক ও দলের তহবিল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর কী বললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? জেনে নিন সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গেল ভারতের নির্বাচন কমিশনের দরজায়। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ এবং দলের তহবিলের ওপর কার অধিকার থাকবে, সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
এদিন ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক সেরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "প্রতীকের প্রশ্ন, ফান্ডের প্রশ্ন কোথা থেকে আসছে ? আমরাই তো তৃণমূল কংগ্রেস ৷ আজ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন আমরা সব মিলিয়ে 10 জন, আমাদের এনডব্লিউসি'র সদস্যরা, প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী-সহ আমরা সবাই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেছি ৷"
এছাড়াও ঋতব্রত জানান, কমিশনের সামনে তাঁদের পক্ষের সমস্ত নথি ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের পক্ষই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস এবং সংগঠন ও আইনসভা—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারণেই দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং তহবিলের ওপর তাঁদের দাবিকে কমিশনের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে সমস্ত নথি গ্রহণ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের পর। ইতিমধ্যেই দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্বের তালিকা জমা দিয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাদের পক্ষেই অধিকাংশ বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি এবং সাংগঠনিক সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও নিজেদেরই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি জানিয়েছে। ফলে কোন পক্ষকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং দলের নাম ও প্রতীক কার হাতে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। কমিশন উভয় পক্ষের জমা দেওয়া নথি, সাংগঠনিক শক্তি এবং আইনসভার সমর্থনের মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজনে নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তাই আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক ও তহবিলের ভবিষ্যৎ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাতেই রয়েছে।