জ্ঞানেশকে ঘিরে ফের চাপে বিজেপি! এবার ECI-র কাছে জবাব চাইছে NDA-র শরিকরা
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক। SIR ও ভোটার তালিকা নিয়ে ECI-কে ব্যাখ্যা চাইল NDA-র শরিকরা। সুপ্রিম কোর্টের পিটিশনেও নতুন করে চর্চা।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা:
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ২৬ সেপ্টেম্বর ফের বড় চাপ তৈরি হল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে। SIR ও ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্নের মাঝেই এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা চাইল এনডিএ-র একাধিক শরিক। পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া পিটিশন নিয়েও চর্চা বাড়ল।
ECI-কে জবাবদিহির দাবি NDA-র শরিকদের
চিরাগ পাসওয়ানের LJP (Ram Vilas), TDP এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার তরফে SIR ও কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হলে কমিশনেরই সেই সংশয় দূর করা উচিত।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী HD কুমারস্বামীও কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে ECI-কে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অবস্থানও স্পষ্ট। কমিশনের বক্তব্য, মতামতের পার্থক্য কোনও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অস্বাভাবিক বিষয় নয়। SIR-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন
এর মধ্যেই ২৫ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া একটি পিটিশন ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আবেদনে বিশেষভাবে SIR-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু সিদ্ধান্ত, নতুন ভোটারদের জন্য Form 6-এ আনা পরিবর্তন এবং ECINet/ERONet-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই পরিবর্তনগুলি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং কমিশনের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বাইরে করা হয়েছিল। Form 6-এর আগের কাঠামো পুনর্বহালের দাবিও করা হয়েছে।
তবে এগুলি আবেদনকারীর অভিযোগ, আদালতে এখনও প্রমাণিত তথ্য নয়। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও এই বিষয়টি সামনে এনে অভিযোগ করেছেন, Form 6-এ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মানা হয়নি। তাঁর দাবি, তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের জন্য এই পরিবর্তন সমস্যার কারণ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য SIR-এর অধীনে নতুন ভোটারদের জন্য ডিক্লারেশন ফর্ম ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে আইনি কাঠামোর মধ্যেই বলে ব্যাখ্যা করেছে।
অর্থাৎ, এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—Form 6-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্তটি কমিশনের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে কি না এবং সেটি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনও আদালত বা কোনও নিরপেক্ষ তদন্তে স্থির হয়নি।
জগন মোহন রেড্ডির নতুন দাবি, বদলাক নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন
নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। YSR কংগ্রেসের প্রধান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান আইন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তিনি ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে তিন সদস্যের নিয়োগ কমিটি গঠনের প্রস্তাব পুনরায় সামনে এনেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০২৩ সালের আইনটি তাঁর দল সমর্থন করেছিল বলেও জগন নিজেই উল্লেখ করেছেন।
এখন কোথায় দাঁড়িয়ে পুরো বিতর্ক?
SIR, Form 6 এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি আইনি চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত ব্যাখ্যার দিকে।