দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি! আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, CJP নেতারা, বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও SIR বাতিলের দাবিতে উত্তাল দিল্লি। CJP নেতা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করার খবর, বন্ধ মেট্রো স্টেশন, ট্রেন বাতিল ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তা—জানুন সর্বশেষ আপডেট।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। ১০ অক্টোবর, শনিবার, যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে দিল্লির একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড, মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, ট্রেন বাতিল এবং নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার খবর সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের আটক করার পাশাপাশি বিমানে দিল্লিতে পৌঁছনো CJP নেতাদেরও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন কেন?
Cockroach Janta Party (CJP) এবং অন্যান্য প্রতিবাদী সংগঠনের ডাকে এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধের অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত, মৃত এবং খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটারদের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। ভুলবশত নাম বাদ পড়লে পুনরায় নাম নথিভুক্ত করার সুযোগও রয়েছে।
বিমানে দিল্লি পৌঁছতেই আটক CJP-র শীর্ষ নেতারা
আন্দোলনের দিন সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে পুলিশ। সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, মুম্বই থেকে আসা বিমানে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তিন নেতাকে পৃথক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আটক
দিল্লির আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের আটক করার খবর সামনে আসায়। সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে দিল্লি পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে, তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন বাতিল
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, NDTV এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্দোলন ঠেকাতে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ বা তার বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এই সংখ্যাগুলি বিভিন্ন সময়ের রিপোর্ট ও বাহিনীর হিসাবের ভিত্তিতে প্রকাশিত।
এছাড়া দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার খবরও জানা গিয়েছে। নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনগামী বা সেখান থেকে ছাড়ার জন্য নির্ধারিত বহু ট্রেনও বাতিল করা হয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর রিপোর্টে অন্তত ২৪৫টি ট্রেন বাতিলের কথা জানা গেছে। এই বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে বড়সড় প্রভাব পড়ে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ঘিরে প্রশ্ন
পরিবহণে বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং কিছু ট্রেন চালু রাখার বিষয়েও আদালতের বক্তব্য সামনে আসে। দিল্লিতে কককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মসূচিকে ঘিরে পরিবহন বিধিনিষেধের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে, "মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না" এবং পুরোপুরি গণপরিবহন বন্ধ করা অপ্রয়োজনীয়।
কতজনকে আটক করল পুলিশ
বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওযয়া আপডেট অনুযায়ী, অন্তত ১,২০০ জনকে আটক করার খবর রয়েছে। আবার কিছু সূত্রে ৪০০ জন আটকের কথা বলা হয়েছে। এগুলি বিভিন্ন সময়ের রিপোর্ট।
আইনজীবীদের আটক দিল্লী পুলিশের
সুপ্রিম কোর্টের সামনে ভগবান দাস রোডে আইনজীবীরা মিছিল করার সময় পুলিশ তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় এবং প্রায় ১০০ জন আইনজীবী ও অন্যান্য প্রতিবাদীকে আটক করে যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এই আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও আইনজীবীদের মুক্তির দাবি জানায়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে আটক আইনজীবীদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দিষ্ট এলাকায় বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট
দিল্লিতে আন্দোলনের আগে জনপথ–কর্তব্য পথ সংযোগস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন রাস্তায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড, যানবাহনে তল্লাশি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির খবর সামনে এসেছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এখনও পর্যন্ত কী পরিস্থিতি?
১০ অক্টোবরের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, CJP-র শীর্ষ নেতাদের আটক, বহু বিক্ষোভকারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া, মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ—এই ঘটনাগুলিই আন্দোলন ঘিরে প্রধান আপডেট। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও কিছু প্রতিবাদকারী ব্যারিকেডের কাছে পৌঁছে স্লোগান দেন। অন্যদিকে, কিছু ভিন্ন খবরও সামনে এসেছে, যেমন রাস্তায় ময়লা ফেলে প্রতিবাদীদের আটকানোর চেষ্টা, প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।