নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর মিলন প্রধানের মামলায় হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্ট
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে হাইকোর্টে বড় আপডেট। ৫ মামলায় আর পদক্ষেপ করবে না রাজ্য। বর্তমানে কোন মামলায় জেলে রয়েছেন তিনি? জানুন বিস্তারিত।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে হাইকোর্টে মঙ্গলবার বড় আপডেট। গ্রেফতারির পর আরও পাঁচটি পুরনো মামলায় ফের গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন মিলন। সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হল, ওই পাঁচটি মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। রাজ্যের বক্তব্য, ওই মামলাগুলিতে তিনি মূল অভিযুক্ত নন। ফলে এই মুহূর্তে তাঁর আবেদন নিয়ে আলাদা কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন দেখেনি হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১২ অক্টোবর।
কী বলল রাজ্য?
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মোট ১১টি পুরনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার কথা আদালতে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, বর্তমানে জেল হেফাজতে থাকার পাশাপাশি আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, যে পাঁচটি মামলায় মিলন প্রধান রক্ষাকবচ চেয়েছেন, সেগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই মামলাগুলিতে মিলন প্রধান মূল অভিযুক্ত নন। এই বক্তব্যের পর হাইকোর্টও আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি।
বর্তমানে কোন অবস্থায় মিলন প্রধান?
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির মধ্যে দুটি মামলায় তিনি বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হয়। পরে আরও একটি মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অন্য মামলাটির ক্ষেত্রেও আদালতে পরবর্তী হাজিরা রয়েছে।
ফলে হাইকোর্টে মঙ্গলবারের শুনানিতে যে পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল, সেগুলিতে আপাতত নতুন করে গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকছে না বলেই রাজ্যের বক্তব্য। তবে যে দুটি মামলায় তিনি বর্তমানে জেলে রয়েছেন, সেগুলির জামিনের বিষয়টি এখনও আলাদা এবং সেটিই তাঁর জেলমুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রেফতারি নিয়ে কী বলছে দুই পক্ষ?
মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে প্রশ্ন তোলেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগে ২০০৭ সালের পুরনো মামলার পরোয়ানা কার্যকর করে তাঁকে গ্রেফতার করা হল কেন। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে একজন নির্বাচনী প্রার্থীর প্রচারে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে রাজ্যের দাবি, এই গ্রেফতারির সঙ্গে নির্বাচনের কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে আইন ও আদর্শ আচরণবিধি মেনেই। রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়েছে, শুধু মিলন প্রধানের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যদের বিরুদ্ধেও থাকা পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে।
যদিও প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, প্রার্থী মিলনের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার বিবরণ নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, কোনও তথ্য গোপন করা হয়নি। তা হলে দীর্ঘ ২০ বছর আগের মামলায় ভোটের ঠিক আগেই কেন হঠাৎ এমন তৎপরতা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভঙ্কর। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, প্রশাসনিক চাপ থাকা সত্ত্বেও লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালাবে না কংগ্রেস।
ভোটের আগে কী হতে চলেছে?
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর। প্রচার শেষ হবে ৪ অক্টোবর এবং ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। ফলে মিলন প্রধানের জামিনের আবেদন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাইকোর্টের মঙ্গলবারের শুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলায় নতুন পদক্ষেপের আশঙ্কা আপাতত কাটলেও, বর্তমানে যে দুটি মামলায় তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন, সেখান থেকে জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে থাকা সম্ভব নয়।
এখন নজর থাকবে সেই দুই মামলায় তাঁর জামিনের শুনানির দিকে। পাশাপাশি ১২ অক্টোবর ফের হাইকোর্টে মামলাটি উঠবে। ফলে ভোটের আগে মিলন প্রধান জেল থেকে বেরিয়ে সরাসরি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেটিই এখন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের অন্যতম বড় প্রশ্ন।