অবশেষে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের! NEET আন্দোলনের বড় জয় দাবি CJP-র, তবে এবার সামনে কী? উঠছে প্রশ্ন
NEET-UG 2026 প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগ নিয়ে কী বলল ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP? দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া ও সর্বশেষ আপডেট জানুন।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: যে দাবিতে দিনের পর দিন রাস্তায় আন্দোলন, সংসদের সামনে বিক্ষোভ, দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ—অবশেষে সেই দাবিতেই বড়সড় রাজনৈতিক মোড়! NEET-UG 2026-কে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। ২৫ জুলাই, শনিবার তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আর এই পদত্যাগকে নিজেদের আন্দোলনের বড় জয় হিসেবে দেখছে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP।
পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান মূলত দেশের যুবসমাজ ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, NEET-UG পরীক্ষা ঘিরে তৈরি পরিস্থিতিতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত এবং এই ঘটনাকে কোনও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় হিসেবে দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, জন্তর মন্তর-সহ গোটা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে যাতে কোনও ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অটুট থাকে এবং কোনও পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় আটকে না যায়—সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর প্রতি আস্থা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অর্থাৎ, পদত্যাগপত্রে সরাসরি কোনও একক ব্যক্তিকে দায়ী না করে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, জাতীয় ঐক্য এবং চলমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় কী প্রতিক্রিয়া CJP-র?
পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। CJP-র তরফে এই ঘটনাকে আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যে উঠে এসেছে, আন্দোলন করলে এবং ভয় না পেলে পরিবর্তন আনা সম্ভব—ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা তারই প্রমাণ। তাঁর বক্তব্য, এই পদত্যাগ দেখিয়ে দিয়েছে যে গণআন্দোলনের চাপকে উপেক্ষা করে সবসময় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
তবে CJP-র আন্দোলন এখানেই শেষ হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR প্রত্যাহার এবং NEET-সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে নজর থাকবে CJP-র দিকে।
দেশজুড়ে কী প্রতিক্রিয়া?
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী এবং CJP-র সমর্থকদের একাংশ এটিকে নিজেদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফল হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও NEET ইস্যুতে কেন্দ্রকে লাগাতার আক্রমণ করে আসছে।
গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লির পাশাপাশি কলকাতা, পটনা, মুম্বই-সহ বিভিন্ন শহরে NEET ইস্যুতে বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে। বিহারে ২৫ জুলাইয়ের বন্ধকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং আটকের ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দিনেও NEET ইস্যু ঘিরে দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ পুরোপুরি কমেনি।
আন্দোলনের চাপেই কি ইস্তফা?
এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এই প্রশ্নটি নিয়েই। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সময়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একদিকে NEET-UG 2026 নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ, অন্যদিকে CJP-সহ আন্দোলনকারীদের লাগাতার বিক্ষোভ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি—এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর ইস্তফা এসেছে।
তবে পদত্যাগের একমাত্র কারণ হিসেবে আন্দোলনকেই সরকারি ভাবে দায়ী করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি ব্যাখ্যা এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই রাজনৈতিক মহলের দাবি ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্যের পাশাপাশি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানও নজরে রাখা জরুরি।
এবার সামনে কী?
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এরপর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব কে সামলাবেন এবং NEET-UG 2026 নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? এই মুহূর্তে সেই উত্তর স্পষ্ট নয়।
পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
একইসঙ্গে CJP-র আন্দোলনও কোন পথে যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে তারা বড় জয় হিসেবে দেখলেও, সংগঠনের অন্যান্য দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা হয়তো NEET বিতর্কের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, কিন্তু গোটা বিতর্কের শেষ নয়। আগামী দিনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের অগ্রগতিই ঠিক করবে এই রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে গড়ায়।