ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বাড়ছে ভিড়, দিল্লি থেকে বিদেশেও ছড়াল প্রতিবাদ

বুধবার দিল্লিতে CJP Protest-এর সর্বশেষ পরিস্থিতি কী? যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদ,কড়া নিরাপত্তা ঘিরে কী ঘটছে, জানুন বিস্তারিত।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বাড়ছে ভিড়, দিল্লি থেকে বিদেশেও ছড়াল প্রতিবাদ

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: দিল্লির রাজপথে উত্তেজনা এখনও কাটেনি। যন্তর মন্তরে চলছে CJP বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র অবস্থান-বিক্ষোভ, বুধবার সকালেও রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড দেখা গিয়েছে। 
যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আন্দোলনকে আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছেন।

বুধবার এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে CJP প্রতিবাদের পরিস্থিতি কী?

বুধবার CJP-র আন্দোলন মূলত যন্তর মন্তরকেন্দ্রিক। সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, সেখানে এখনও বিক্ষোভ চলছে এবং সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি রয়েছে। এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে CJP-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার তাদের দাবি না মানলে লাখ লাখ মানুষ দিল্লিতে আসবেন।' সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনে আরও মানুষ যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সংসদ ভবনের আশপাশেও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

CJP-র প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের জবাবদিহি। NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষাকে ঘিরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সেই ক্ষোভই এখন দিল্লির এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। বুধবার কেন্দ্রের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখনও কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত মেলেনি।

নিট কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন অন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের বাইরেও আন্দোলন ছড়াতে শুরু করল। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, অনশনরত ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমেরিকার একটি ‘অ্যাডভোকেসি গ্রুপের’ সদস্যেরা নিউ ইয়র্ক এবং সান হোসে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নাম ওই গ্রুপের সদস্যেরা জমায়েত করেন নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গাঁধী মূর্তির সামনে। সেই জমায়েত থেকে উঠল ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবি। শুধু নিউ ইয়র্ক বা সান হোসে-তে নয়, লন্ডন এবং ডাবলিনেও একই ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ওই গ্রুপের সদস্যেরা।
 
বুধবার এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, CJP-র অবস্থান যন্তর মন্তরে অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা আপাতত পিছিয়ে যাওয়ার কোনও বার্তা দেননি। বরং আরও সমর্থককে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া রাখা হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টায় CJP-র পরবর্তী কর্মসূচি এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, দিল্লিতে CJP বিক্ষোভ এখন আর শুধুমাত্র একটি ছাত্র-যুব আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমর্থন, রাহুল গান্ধীর আটক এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও সমঝোতার রাস্তা খোলে কি না, নাকি যন্তর মন্তর থেকেই আরও বড় আন্দোলনের ডাক আসে।