বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক বার্তা! গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষের চেক, দাদার চাকরি, নির্যাতিতার বাড়িতেও সাক্ষাৎ

বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন মামলার আজকের সমস্ত বড় আপডেট। নির্যাতিতার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফর, গণপিটুনিতে নিহত নির্দোষ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তদন্তের অগ্রগতি, নতুন গ্রেফতার এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ— জেনে নিন বিস্তারিত।

বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক বার্তা! গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষের চেক, দাদার চাকরি, নির্যাতিতার বাড়িতেও সাক্ষাৎ

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার অভিঘাত এখনও কাটেনি। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। একদিকে নাবালিকার পরিবারের বিচার চাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে গণরোষের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের কান্না— দুই ঘটনাই এখন প্রশাসনের নজরে।

তদন্তে এখনও পর্যন্ত পুলিশের দাবি, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। সেই সময় পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সিআইডি আলাদা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তবে বারুইপুর কাণ্ডে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর উত্তেজিত জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার হন তিনি। পরে তদন্তে উঠে আসে, ইন্দ্রজিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই তাঁকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না।

গত সপ্তাহে বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবার এবং ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ ছিল, নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পরেও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেনি। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রিপোর্ট চেয়েছেন এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

শনিবার ফের বারুইপুরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর যান গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে। ইন্দ্রজিতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বড় ভাইকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছে। পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আজকের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনেই কয়েক দিনের মধ্যে এই ফাঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এলাকায় দ্রুত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতেই এই পদক্ষেপ।

এদিকে গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশি অভিযানও জোরদার হয়েছে। শুক্রবার রাতে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে ইন্দ্রজিৎ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে যে ভাঙচুর, রেল অবরোধ এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলাগুলিতেও একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

বারুইপুরের এই ঘটনা এখন শুধু একটি অপরাধমূলক মামলার তদন্ত নয়, বরং প্রশাসনের ভূমিকা, জনরোষের সীমা এবং আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নাবালিকার পরিবার বিচার চায়, আর ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবার চায় তাঁর নির্দোষ পরিচয়ের স্বীকৃতি ও হত্যাকারীদের শাস্তি। দুই পরিবারের সেই অপেক্ষার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।