মঞ্চে ভাঙচুরের অভিযোগে রাতভর অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! কেন এত উত্তেজনা?

সভাস্থলে মঞ্চ, ব্যানার এবং সাউন্ড সিস্টেমে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাতভর বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে বসে রইলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, সভা বানচাল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পিছনে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা রয়েছে।

মঞ্চে ভাঙচুরের অভিযোগে রাতভর অবস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! কেন এত উত্তেজনা?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : একুশে জুলাইয়ের সভা শুরু হওয়ার আগেই কলকাতার রাজনীতিতে চড়ল উত্তেজনার পারদ। সভাস্থলে মঞ্চ, ব্যানার এবং সাউন্ড সিস্টেমে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাতভর বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে বসে রইলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, সভা বানচাল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পিছনে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিজেপির তরফে এসেছে কি না, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্পষ্ট কোনও বিস্তারিত বক্তব্য সামনে আসেনি।

চলতি বছর একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভার স্থান নিয়ে আগেই তৈরি হয়েছিল টানাপোড়েন। দীর্ঘদিনের Victoria House-এর সামনে সভা করার অনুমতি না দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে সভা করার অনুমতি দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু শর্তও রাখা হয়েছিল। ফলে ১৪ বছর পর এবার তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সভার স্থান বদলেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সভার আগের রাতে মঞ্চে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসে। খবর পেয়ে রাতেই সেখানে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদ সংস্থা PTI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতাও সেখানে ছিলেন। রাতভর মঞ্চের কাছে দলীয় কর্মীরা পাহারায় থাকেন। তৃণমূলের অভিযোগ, মঞ্চ ও সভাস্থলের পরিকাঠামো নষ্ট করে অনুষ্ঠানটি ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে, কারণ একই দিনে কলকাতার কেন্দ্রে কাছাকাছি এলাকায় একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। PTI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি পৃথক রাজনৈতিক শিবিরের কর্মসূচি ঘিরে এ বছর একুশে জুলাই কার্যত ত্রিমুখী রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আপডেট হল, হামলার অভিযোগের মধ্যেও নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেনি তৃণমূল। বরং রাতভর সভাস্থলে থেকে মঞ্চ ও অনুষ্ঠানস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশি তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।একুশে জুলাইয়ের সভা ঘিরে এমনিতেই এ বছর রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তার মধ্যেই সভাস্থলে ভাঙচুরের অভিযোগ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতভর অবস্থান ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন নজর একটাই—দিনভর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় কি না এবং সভাস্থলে ভাঙচুরের অভিযোগের তদন্তে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।