নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক, আশ্বাসের পর সংসদের সামনে থেকে সরল বিক্ষোভকারীরা! ককরোচ জনতা পার্টির দাবিতে কি নরম হচ্ছে কেন্দ্র?

CJP-র দুই মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকে যান। বৈঠকের পর বিক্ষোভকারীদের সংসদ ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা শুরু করে।

নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক, আশ্বাসের পর সংসদের সামনে থেকে সরল বিক্ষোভকারীরা! ককরোচ জনতা পার্টির দাবিতে কি নরম হচ্ছে কেন্দ্র?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ সোমবার নতুন মোড় নিল। সংসদ অভিযানের ডাক দিয়ে যন্তর মন্তর থেকে মিছিল শুরু করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সংসদের দিকে এগোতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া এবং লাঠিচার্জের অভিযোগকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রের তরফে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। CJP-র দুই মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে বৈঠকে যান। বৈঠকের পর বিক্ষোভকারীদের সংসদ ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনা শুরু করে।

CJP-র দাবি, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তারা তিনটি প্রধান দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রথমত, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অবিলম্বে মুক্তি। দ্বিতীয়ত, NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তৃতীয়ত, পরীক্ষা-সংক্রান্ত চাপ ও অনিয়মের জেরে আত্মহত্যা করা NEET পরীক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। CJP-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, জেপি নাড্ডা তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কিছু সময় চেয়েছেন।

বৈঠক চলাকালীন আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আবেদনও জানানো হয়। CJP নেতৃত্ব জানায়, সরকার আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ায় তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবিগুলি মেনে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আলোচনা শুরু হলেও সমাধান এখনও অধরাই।

এদিকে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। CJP-র অভিযোগ, সংসদমুখী পদযাত্রা আটকে দিতে বিক্ষোভকারীদের উপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের তরফে অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে কেন্দ্র ও CJP-র মধ্যে সংলাপের দরজা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু দাবিগুলি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। CJP জানিয়েছে, সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর নির্ভর করেই তারা ভবিষ্যতের আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করবে। অন্যদিকে, নাড্ডার আশ্বাসের পর আপাতত সংসদের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেওয়া হলেও আন্দোলন যে শেষ হয়ে যায়নি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে সংগঠনের নেতৃত্ব।