চুরি আটকাতে বাড়ি সিল! টেলিগ্রাম ব্যানে আদালতে চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রকে

টেলিগ্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তে নতুন মোড়! আদালতে পৌঁছল কেন্দ্র বনাম টেলিগ্রাম লড়াই

চুরি আটকাতে বাড়ি সিল! টেলিগ্রাম ব্যানে আদালতে চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রকে

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : কয়েকদিন আগেও অনেকের ধারণা ছিল, ভারতে টেলিগ্রাম বন্ধ হওয়ার খবরটি শুধুই একটি সাময়িক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ এখন অনেক বড় আইনি ও নীতিগত বিতর্কের রূপ নিয়েছে। শুধু একটি মেসেজিং অ্যাপের ভবিষ্যৎ নয়, প্রশ্ন উঠেছে ডিজিটাল স্বাধীনতা, পরীক্ষার নিরাপত্তা এবং সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়েও।

কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি NEET-UG ২০২৬ পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে সারা দেশে টেলিগ্রামের পরিষেবা ২২ জুন পর্যন্ত সীমিত করার নির্দেশ দেয়। সরকারের দাবি, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব, ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রি এবং সংগঠিত প্রতারণা চক্র টেলিগ্রামকে ব্যবহার করছিল। শুধু তাই নয়, টেলিগ্রামের মেসেজ এডিট করার সুবিধা ব্যবহার করে পরীক্ষার পরেও এমনভাবে পোস্ট পরিবর্তন করা হচ্ছিল, যাতে সেটিকে আগাম প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায়। সেই কারণেই ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে মেসেজ-এডিট ফিচারের উপরও বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে এখানেই শেষ নয়। টেলিগ্রাম এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সংস্থার দাবি, কয়েকজন অপরাধীর কাজের জন্য কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। তাদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট চ্যানেল বা অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুরো প্ল্যাটফর্মকে ব্লক করা অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ।

দিল্লি হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয় এবং শুধুমাত্র NEET পুনঃপরীক্ষার সময়কে কেন্দ্র করেই আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে টেলিগ্রামের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রেও নজির তৈরি করতে পারে।

এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিষয়টি এখন আর শুধুমাত্র টেলিগ্রামকে ঘিরে নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপরাধ সংঘটিত হলে পুরো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া কি সমাধান, নাকি আরও অন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত? ডিজিটাল অধিকার কর্মী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধ অবশ্যই জরুরি, কিন্তু তার জন্য কোটি কোটি ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার।

ফলে বর্তমানে সবচেয়ে বড় আপডেট হল—টেলিগ্রাম এখনও আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং দিল্লি হাইকোর্টের পরবর্তী অবস্থানই ঠিক করে দিতে পারে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ২২ জুনের পর উঠে যাবে, নাকি বিষয়টি আরও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোবে। আপাতত দেশের প্রযুক্তি ও আইন মহল দু’দিকেই নজর রেখে অপেক্ষা করছে পরবর্তী শুনানির জন্য।