ভবানী ভবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা! কী খুঁজছে CID?

গত ১১ জুন CID দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া কিছু উত্তরের সঙ্গে তদন্তে সংগ্রহ করা তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে ফের ১৪ জুন ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভবানী ভবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা! কী খুঁজছে CID?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি তথাকথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করেছে রাজ্য CID। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই একটি আইনি তদন্ত, নাকি এর পিছনে রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে?

ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকজন বিধায়কের অভিযোগ থেকে। তাঁদের দাবি, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে CID। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। প্রথম দিকের কয়েকটি সমন তিনি এড়িয়ে যান বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি সুরক্ষার আবেদন করেন তিনি।

হাইকোর্টের শুনানিতে অভিষেকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং তাঁকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয় এবং একইসঙ্গে তদন্ত চলাকালীন জোরপূর্বক কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

এরপর গত ১১ জুন CID দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া কিছু উত্তরের সঙ্গে তদন্তে সংগ্রহ করা তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে ফের ১৪ জুন ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। CID সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত একাধিক বিধায়কের বক্তব্য ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় তদন্তকারী দল। 

এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ তদন্তের স্বার্থে তৃণমূলের বিভিন্ন কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট কিছু জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, এতদিন যে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না, এখন সেগুলোর সত্যতা সামনে আসছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তদন্তকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অবস্থান আপাতত কিছুটা স্বস্তিদায়ক। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছে, ফলে তদন্ত চললেও অবিলম্বে গ্রেফতারির আশঙ্কা নেই। তবে আদালত একইসঙ্গে স্পষ্ট করেছে যে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী তদন্ত চলবে।