একজনের ভবানী ভবন, আরেকজনের হাইকোর্ট! তৃণমূলের ‘ডাবল ট্রাবল’ মঙ্গলবার

একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হয়। আজকের দিন নিয়ে পর পর তিন দিন অভিষেক ব্যানার্জি ED- র কাছে হাজিরা দিলেন। অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই দুই ঘটনাই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

একজনের ভবানী ভবন, আরেকজনের হাইকোর্ট! তৃণমূলের ‘ডাবল ট্রাবল’ মঙ্গলবার

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মঙ্গলবারের দিনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হয়। আজকের দিন নিয়ে পর পর তিন দিন অভিষেক ব্যানার্জি ED- র কাছে হাজিরা দিলেন। অন্যদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই দুই ঘটনাই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় তাঁর একাধিক বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়। গত কয়েকদিন ধরেই সিআইডি তাঁকে একাধিক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়েছিল। এবার নির্বাচনী ভাষণ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও তদন্তকারীরা তাঁকে প্রশ্ন করেন। 

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে যে নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা উত্তেজনা ছড়ানোর সামিল হতে পারে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অভিষেক নিজেও বারবার বলেছেন যে তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং আইন মেনেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, অথচ বেছে বেছে তাঁকেই নিশানা করা হচ্ছে। 

এই ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে একাধিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে বিরোধীরা যেখানে এটিকে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলছে, সেখানে তৃণমূলের দাবি এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। 

অন্যদিকে, একই দিনে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন মামলা দায়ের করেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত করেন। ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তাই এই পরাজয় শুধু নির্বাচনী ফল নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও মামলার সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে আদালতের মাধ্যমে তিনি ফলাফলের বৈধতা খতিয়ে দেখতে চাইছেন।

ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে শুরু থেকেই তৃণমূলের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। নির্বাচনের পরে দল অভিযোগ তুলেছিল যে ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি সেই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। এখন আদালতে এই বিতর্কের আইনি পরিণতি কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়। 

সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানী ভবন হাজিরা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর মামলা—এই দুই ঘটনাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াই ভোটগণনার দিনেই শেষ হয়নি। রাজনৈতিক সংঘাত এখন তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের পরিসরেও প্রবেশ করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এই দুই মামলার অগ্রগতি বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।