"এক সেকেন্ডে বারোটা বাজিয়ে দেবে!" — মমতার ভাষণ ঘিরে আইনি ঝড়

ধর্মতলায় ধর্না মঞ্চ থেকে গত ৮ ই মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। অভিযোগ, ওই বক্তব্যে এমন মন্তব্য করা হয়েছিল যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ, শত্রুতা ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

"এক সেকেন্ডে বারোটা বাজিয়ে দেবে!" — মমতার ভাষণ ঘিরে আইনি ঝড়

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। ধর্মতলায় ধর্না মঞ্চ থেকে গত ৮ ই মে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। অভিযোগ, ওই বক্তব্যে এমন মন্তব্য করা হয়েছিল যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ, শত্রুতা ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

সংবাদমাধ্যম তথ্য অনুযায়ী, নেতাজি নগর এলাকার বাসিন্দা তুষার কান্তি দাস প্রথমে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি পরে জিরো এফআইআর হিসেবে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়, কারণ ঘটনাস্থল ছিল ধর্মতলা এলাকা। এরপর হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত মার্চ মাসে ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া একটি রাজনৈতিক ভাষণ। যেখানে তিনি বলেছিলেন, " আমরা আছি বলে না আপনারা সবাই ভাল আছেন, আর যদি আমরা না থাকি, এক সেকেন্ড লাগবে একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে, যদি নিজেদের তেরোটা বাজাতে না চান, বিজেপির অপপ্রচারে কেউ ভুল বুঝবেন না" ।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ওই বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে সক্ষম।  সেই কারণেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(১) ধারায় মামলা রুজু করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে শাসকপক্ষের একাংশের বক্তব্য, আইনের চোখে সকলেই সমান এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। তদন্তকারী সংস্থাকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ এখন তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে এই মামলা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিরোধী শিবিরে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার সিদ্ধান্তই এই বিতর্কের প্রকৃত দিক নির্ধারণ করবে।