"ঘুরতে আসবো না কাজ করার জন্য আসবো" - উত্তরবঙ্গকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, "২০০৯ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টিকে উত্তরবঙ্গের মানুষ যেভাবে সুযোগ এবং স্বীকৃতি দিয়েছে, উন্নয়নের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করবো"।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর— সর্বত্রই এই সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কারণ, বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচারে উত্তরবঙ্গের “বঞ্চনা” একটি বড় ইস্যু ছিল এবং ক্ষমতায় আসার পর সেই অঞ্চলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ২০ মে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করেই মূলত এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, "২০০৯ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টিকে উত্তরবঙ্গের মানুষ যেভাবে সুযোগ এবং স্বীকৃতি দিয়েছে, উন্নয়নের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করবো"। এছাড়াও তিনি বলেন "উত্তরবঙ্গের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ বিজেপি করবে"।
প্রতিমাসে উত্তরবঙ্গ সফরের কথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন "প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা সরকার উত্তরবঙ্গের কাছে পৌঁছে যাবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রত্যেক সপ্তাহে একদিন উত্তরকন্যাতে অফিস করবে।" "ঘুরতে আসবো না কাজ করার জন্য আসবো" - সরাসরি বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিমানবন্দর থেকে সোজা শিলিগুড়ির স্যাটেলাইট টাউনশিপে অবস্থিত রাজ্য সরকারের মিনি সচিবালয় ‘উত্তরকন্যায়’ পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, আইজিপি, পুলিশ সুপার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, সামনেই বর্ষাকাল কড়া নাড়ছে, তাই এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তরবঙ্গের চিরাচরিত সমস্যা - বন্যা, পাহাড়ি ধস, হড়পা বান এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি।
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চা বলয়ের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি ও চিকিৎসা পরিষেবার সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাজ্যে সরকার বদল হতেই উত্তরবঙ্গের বেআইনি নির্মাণ, সরকারি জমি দখল এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর পাচারকারী মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং এটি নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক রোডম্যাপেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও উন্নয়ন প্রশ্নে নতুন সরকার কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলের।