সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির ঘিরে অঙ্গহানির অভিযোগ! অন্যদিকে FIR-এর হিসাব চেয়ে হাই কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

শুধু সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরের কার্যক্রম নিয়েই নয়, তাঁর নামে ঠিক কতগুলি ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেই তথ্য জানতেই এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ফলে স্বাস্থ্য শিবিরের বিতর্ক এবং আইনি লড়াই— এই দুই বিষয় এখন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে গিয়েছে।

সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির ঘিরে অঙ্গহানির অভিযোগ! অন্যদিকে FIR-এর হিসাব চেয়ে হাই কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : সেবাশ্রয়কে ঘিরে বিতর্ক থামার নামই নিচ্ছে না। একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবি, অন্যদিকে সেই শিবিরকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ, এফআইআর এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরের কার্যক্রম নিয়েই নয়, তাঁর নামে ঠিক কতগুলি ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেই তথ্য জানতেই এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ফলে স্বাস্থ্য শিবিরের বিতর্ক এবং আইনি লড়াই— এই দুই বিষয় এখন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে গিয়েছে।

'সেবাশ্রয়' এবং পরে 'সেবাশ্রয় ২' নামে একাধিক স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করা হয়েছিল, এখন সেখান থেকে অঙ্গহানির অভিযোগ উঠে আসছে।সেবাশ্রয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে, শিশুকন্যার হাত বাদ যাওয়ার জন্য অভিষেককে দায়ী করে বিষ্ণুপুর থানায় গেলেন বাবা-মা, 

সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে ডায়মন্ড হারবার থানায় এবং পরে বিষ্ণুপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়।

এছাড়াও সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা করে পা বাদ, পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী এক মহিলা, তিনিও অভিষেকের বিপদ বাড়িয়ে দায়ের করেন FIR।

 এই ঘটনাগুলির পর থেকেই আইনি জটিলতা আরও বাড়তে থাকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুধু সেবাশ্রয় সংক্রান্ত অভিযোগই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে একটি আবেদন করে জানান, তাঁর নামে ঠিক কতগুলি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে, সেই তথ্য তাঁর কাছেও স্পষ্ট নয়। তাই রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি)-কে নির্দেশ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। আদালত সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। অর্থাৎ, আদালত এখন জানতে চাইছে রাজ্যের কাছে থাকা সরকারি নথি অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে এবং সেগুলির বর্তমান অবস্থান কী।

অন্যদিকে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সমস্ত অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আইনি চাপ আরও বেড়েছে। ডিজে বাজানো মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁকে কণ্ঠস্বরের নমুনাও জমা দিতে হয়েছে। সেই তদন্তেও আদালতের নির্দেশ মেনে তিনি বিচারকের সামনে উপস্থিত হয়ে ভয়েস স্যাম্পল দিয়েছেন। ফলে একদিকে সেবাশ্রয় বিতর্ক, অন্যদিকে বিভিন্ন মামলার তদন্ত— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই তাঁকে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা জরুরি, আদালতে আবেদন করার অর্থ এই নয় যে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে বা খারিজ হয়ে গিয়েছে। সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলমান এবং আদালতের নজরদারিতেই একাধিক আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। একইভাবে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কতগুলি এফআইআর রয়েছে, তার নির্দিষ্ট সরকারি হিসাবও আদালতে রাজ্যের রিপোর্ট জমা পড়ার পরই পরিষ্কার হবে। ফলে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক তরজা যতই তীব্র হোক না কেন, শেষ কথা বলবে তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াই।