কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা? তৃণমূলে কি শুরু হয়েছে 'ঘর ওয়াপসি'র কাউন্টডাউন!

INDIA জোটকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্প্রতি দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের বৈঠকে একসঙ্গে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের। বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর পৃথক সাক্ষাৎ এবং তাঁদের সৌহার্দ্যপূর্ণ ছবি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, কংগ্রেস কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার কথা ভাবছে?

কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা? তৃণমূলে কি শুরু হয়েছে 'ঘর ওয়াপসি'র কাউন্টডাউন!

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : INDIA জোটকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্প্রতি দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের বৈঠকে একসঙ্গে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের। বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর পৃথক সাক্ষাৎ এবং তাঁদের সৌহার্দ্যপূর্ণ ছবি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, কংগ্রেস কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার কথা ভাবছে?

তবে এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বা তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। বরং তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই জানিয়েছে, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। 

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গত কয়েক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। একের পর এক পদত্যাগ, বিদ্রোহী শিবিরের উত্থান এবং দলীয় নেতৃত্বকে ঘিরে নানা প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘদিন বাংলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা দলটি কি সত্যিই বড় ধরনের সংকটের মুখে?

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় দল ছাড়ার ঘোষণা করেন। তাঁর পরই রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবও দল এবং সংসদীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই ঘটনাগুলি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পরপর দুই সাংসদের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে দিল্লিতে তৃণমূলের একাংশ সাংসদের আলাদা অবস্থান নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একাধিক সাংসদ পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও দলীয় নেতৃত্ব বিদ্রোহের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে, তবুও ঘটনাগুলি তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দলীয় সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংগঠনের উপর নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে নেতৃত্বের প্রশ্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দলের সবচেয়ে বড় মুখ হলেও ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক দিক কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর একাধিক বৈঠক ও তৎপরতা সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়েছে।

তবে এটাও সত্য যে, তৃণমূল কংগ্রেস অতীতেও একাধিকবার দলবদল, বিদ্রোহ এবং সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। অনেক বড় নেতার দলত্যাগ সত্ত্বেও দল ক্ষমতায় ফিরতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকেও অনেকে সাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছে, এটি শুধুমাত্র কয়েকজন নেতার অসন্তোষ নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মোড়ে দাঁড়িয়ে। তৃণমূলের এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত কতটা বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী কয়েক মাস সেই সমীকরণ আরও পরিষ্কার হতে পারে।