Anti-Paper Leak Bill নিয়ে রাজ্যসভায় তুমুল বিতর্ক! 'মোদী-শাহ নীরব কেন?’ খাড়গের প্রশ্নে চাপে কেন্দ্র

Anti-Paper Leak Bill 2026 নিয়ে রাজ্যসভায় তুমুল বিতর্ক। মল্লিকার্জুন খাড়গের আক্রমণ, কেন্দ্রের জবাব, সংশোধনী বিলে কী রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত সমস্ত আপডেট জানুন।

Anti-Paper Leak Bill নিয়ে রাজ্যসভায় তুমুল বিতর্ক! 'মোদী-শাহ নীরব কেন?’ খাড়গের প্রশ্নে চাপে কেন্দ্র

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: দেশের কোটি কোটি পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন উদ্বেগ চরমে, ঠিক তখনই Anti-Paper Leak Bill ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ। লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার একদিন পর, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অর্থাৎ আজ রাজ্যসভায় তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সরকারের দাবি, প্রশ্নফাঁস রুখতে আইনকে আরও শক্তিশালী করতেই এই সংশোধনী। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন আইনের আড়ালে ‘কঠোর শাস্তি’র বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় Public Examinations Amendment Bill, 2026 নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়। বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। বহু পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরও সরকার সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, পরীক্ষা পরিচালনার গোটা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি।

খাড়গে প্রশ্ন তোলেন, NEET-সহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এতদিন প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য কেন রাখেননি? তাঁর দাবি, ছাত্রদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন নয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অবস্থান শুরু থেকেই কঠোর। তাঁর বক্তব্য, সংশোধনী বিলের লক্ষ্য শুধুমাত্র শাস্তি বাড়ানো নয়, বরং সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

২০২৪ সালে পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act কার্যকর হয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে NEET-সহ একাধিক পরীক্ষা ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে আইনটিকে আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।

বিরোধীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পরীক্ষা পরিচালনায় দুর্বল নজরদারি। সেই সমস্যা না মিটিয়ে শুধু কঠোর শাস্তির বিধান আনলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তাই আইন সংশোধনের পাশাপাশি পরীক্ষা পরিচালনার কাঠামোগত সংস্কারের দাবিও তোলেন বিরোধী সাংসদরা।

৩০ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার বিলটি পাস করানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে, অন্যদিকে বিরোধীরা একাধিক সংশোধনীর প্রস্তাব এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে Anti-Paper Leak Bill ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

NEET-সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এখন সংসদের কেন্দ্রে। নতুন সংশোধনী আইন পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হবে, নাকি বিরোধীদের আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হবে—সেই উত্তর মিলবে আগামী দিনে। আপাতত, Anti-Paper Leak Bill ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত দেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।