রাজ্যস্তরের শুটার দময়ন্তী সেন নিখোঁজ: জাতীয় দলে ট্রায়ালের স্বপ্নের মাঝেই রহস্য, শেষ দেখা হাওড়া স্টেশনে

হাওড়ার ১৫ বছরের রাজ্যস্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। শেষবার তাকে হাওড়া স্টেশনের সিসিটিভিতে দেখা যায়। জাতীয় ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার পরই এই ঘটনায় উদ্বেগে পরিবার ও ক্রীড়ামহল। এখনও পর্যন্ত তদন্তে কী জানা গেল, পড়ুন বিস্তারিত।

রাজ্যস্তরের শুটার দময়ন্তী সেন নিখোঁজ: জাতীয় দলে ট্রায়ালের স্বপ্নের মাঝেই রহস্য, শেষ দেখা হাওড়া স্টেশনে

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: কয়েক দিন আগেই জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার খবর এসেছিল। স্বপ্ন ছিল দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর। সেই আনন্দে ভাসছিল পরিবারও। কিন্তু সেই স্বপ্নের মধ্যেই নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন হাওড়ার ১৫ বছরের প্রতিভাবান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার, সতীর্থ এবং ক্রীড়ামহলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তী অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাইফেল শুটিংয়ের অনুশীলন করতেন। সম্প্রতি তিনি জাতীয় দলের ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরিবারের দাবি, সেই সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই অনুশীলনে আরও বেশি মন দিয়েছিল দময়ন্তী এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী ছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেরিয়েছিল দময়ন্তী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪৬ মিনিটের মধ্যে সে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছয়। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে সকাল প্রায় ১০টা ১ মিনিট নাগাদ ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট এবং হাফ প্যান্ট।

মেয়ে দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে হাওড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ অপহরণ, স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া বা অন্য কোনও সম্ভাবনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তদন্ত চলায় কোনও নির্দিষ্ট তত্ত্বকে নিশ্চিত করা হয়নি। 

দময়ন্তীর বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার পর মেয়ে অত্যন্ত খুশি ছিল এবং নিয়মিত অনুশীলন করছিল। পরিবারের দাবি, বাড়িতে কোনও অশান্তি বা এমন কোনও পরিস্থিতি ছিল না, যার কারণে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারে। এই কারণেই গোটা ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। 

শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দময়ন্তীর সন্ধানে পুলিশি তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পরিবারও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কেউ যদি দময়ন্তী সম্পর্কে কোনও তথ্য জানতে পারেন, তাহলে অবিলম্বে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। এখনও পর্যন্ত তার উদ্ধার বা অবস্থান সম্পর্কে কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।