২১ জুলাইয়ের আগেই কালীঘাট-তৃণমূলে বড় ধাক্কা! ED-র ফ্রিজ করা ৩টি অ্যাকাউন্টে স্বস্তি দিল না হাইকোর্ট

তৃণমূল কংগ্রেসের ‘কালীঘাট’ শিবিরের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল দলটি। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিলেন, এই পর্যায়ে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করছে না। ফলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার উপর আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ মিলল না।

২১ জুলাইয়ের আগেই কালীঘাট-তৃণমূলে বড় ধাক্কা! ED-র ফ্রিজ করা ৩টি অ্যাকাউন্টে স্বস্তি দিল না হাইকোর্ট

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধু রাজপথে নয়, আদালতের এজলাসেও। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘কালীঘাট’ শিবিরের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল দলটি। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিলেন, এই পর্যায়ে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করছে না। ফলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার উপর আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ মিলল না। 

এই মামলার সূত্রপাত জুন মাসে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ ছিল, দলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল অর্থের উৎস এবং লেনদেন নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রথমে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ডেবিট ফ্রিজ করা হয়। পরে অর্থপাচার সংক্রান্ত তদন্তে নেমে ED-ও একই তিনটি অ্যাকাউন্টে হস্তক্ষেপ করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অর্থের একটি অংশ কথিত অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই কারণেই অ্যাকাউন্টগুলির উপর নজরদারি জরুরি। 

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট’ শিবিরের দাবি, এই অর্থ সম্পূর্ণ বৈধ রাজনৈতিক তহবিল। নির্বাচন কমিশন এবং আয়কর দফতরের কাছেও এর হিসাব জমা রয়েছে। দলের তরফে আদালতে জানানো হয়, অ্যাকাউন্টগুলি দীর্ঘদিন অচল থাকায় সাংগঠনিক কাজ, কর্মীদের বেতন, প্রশাসনিক খরচ এবং আইনি লড়াই চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাই আদালতের তত্ত্বাবধানে অন্তত দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়। 

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে এই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করে আদালতের নজরদারিতে শুধুমাত্র দৈনন্দিন সাংগঠনিক ও আইনি খরচের জন্য সীমিত অর্থ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি চেক বিশেষ আধিকারিকের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করার নির্দেশও ছিল। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছিল, বড় অঙ্কের বা অস্বাভাবিক কোনও খরচ করা যাবে না এবং মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।

সাম্প্রতিক শুনানিতে ‘কালীঘাট’ শিবির বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল রাখার আবেদন জানায়। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণ রাও সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে আপাতত ED-র ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট নিয়ে নতুন কোনও অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেল না তৃণমূলের এই শিবির। আদালত এই পর্যায়ে তদন্তে হস্তক্ষেপ করতেও রাজি হয়নি। 

বর্তমানে মামলাটি এখনও বিচারাধীন। একদিকে অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ED, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং রাজনৈতিক দলের তহবিল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে আইনি লড়াইও জারি রয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি, নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের উপরই নির্ভর করবে ৪৪০ কোটি টাকার এই বিতর্কিত তহবিলের ভবিষ্যৎ।