আর এড়ানো নয়! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

ডিজে মামলায় দু'বার নোটিশ পাওয়ার পরেও কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কলকাতা হাইকোর্ট ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে উপস্থিত হয়ে ভয়েস স্যাম্পল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কী বলল আদালত, কেন অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি—জানুন বিস্তারিত।

আর এড়ানো নয়! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: ডিজে মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নতুন মোড়। দু'দফা নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হাজির না হওয়ায় এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, আগামী ১৫ই জুলাই দুপুর ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধাননগর আদালতে উপস্থিত হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে।

সিআইডির দাবি,গত ৩০ জুন ও ৮ জুলাই কণ্ঠস্বর পরীক্ষার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হননি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই আচরণের ফলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শুনানি করে।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচের সুবিধা পেলেও তার বিনিময়ে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা বাধ্যতামূলক। এর আগে এফআইআরের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল। সেই সময়ও আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু দু'বার নোটিশ পাওয়ার পরেও হাজিরা না দেওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার পরবর্তী সম্ভাব্য তারিখ ১৮ জুলাই থাকলেও আদালত সেটি এগিয়ে এনে ১৫ জুলাই নির্ধারণ করেছে। আদালতের মতে, তদন্তে আর বিলম্ব হওয়া উচিত নয়।

গত শুনানিতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা আদালতে জানান, সংশ্লিষ্ট অডিওতে থাকা কণ্ঠস্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই সেটা তিনি স্বীকার করেছেন, তাই জন্য আলাদা করে কোন কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট আবারও আইন মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ করে, পুলিশের কাছে এসে বলেন সে অপরাধী, তাহলে কি পুলিশ আর তদন্ত করেন না? তাই জন্যই কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে বলা হয়েছে, কেউ স্বীকার করলেও তদন্তের নিরিখে আইন মেনে, প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই কণ্ঠস্বর পরীক্ষা করতেই হবে। 

কলকাতা হাইকোর্টের আজকের বক্তব্য হল সবকিছুর একটি সীমা রয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সীমাকে অতিক্রম করছেন এবং তার তরফ থেকে যে কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে সেই কৌশলের মাধ্যমে তিনি তদন্তের মোর ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন। এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ কলকাতা হাইকোর্ট একেবারেই ভালোভাবে নিচ্ছে না। 
কলকাতা হাইকোর্টের আজকের এই নির্দেশ এতবার অত্যন্ত কড়া বার্তা এটা কি বলা যায়? কারণ নিম্ন আদালতের নির্দেশ নয়, একেবারে কলকাতা হাইকোর্ট সময়ের দিন তারিখ বেঁধে দিচ্ছে, সে ক্ষেত্রে যদি সেদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা না দেন তাহলে কি কি পদক্ষেপ আদালত গ্রহণ করতে পারে, সেটাও আদালত স্পষ্ট বলে দিয়েছে। 

পরবর্তী নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা না দিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করলে সেক্ষেত্রে সিআইডির আধিকারিকরা চাইলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের মতো যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও এই আচরণের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আর্থিক জরিমানা নেওয়া হতে পারে, এটিও আজকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি।

এই কন্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে চাপ বাড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর? আগামী ১৫ জুলাইয়ের হাজিরাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।