বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে! আখরুজ্জামানের সঙ্গে তুমুল বচসা, মার্শাল দিয়ে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হল কুণাল ঘোষকে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কুণাল ঘোষ ও শেখ আখরুজ্জামানের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মার্শাল দিয়ে কুণাল ঘোষকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। দিনের অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে।

বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যে! আখরুজ্জামানের সঙ্গে তুমুল বচসা, মার্শাল দিয়ে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হল কুণাল ঘোষকে

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের আবহ কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল ফের প্রকাশ্যে! বুধবার বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিধায়ক শেখ আখরুজ্জামানের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের নির্দেশে মার্শাল দিয়ে বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় কুণাল ঘোষকে। একইসঙ্গে তাঁকে দিনের অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কী নিয়ে শুরু হল বিতর্ক?

প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিধানসভায় আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে। বিধানসভার অন্দরে বাজেট বিতর্কের সময় নিজের নাম বক্তার তালিকা থেকে বাদ পড়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান কুণাল ঘোষ। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিধানসভা কক্ষে হট্টগোল তৈরি হয়।

মার্শাল দিয়ে কক্ষের বাইরে কুণাল

বিতর্ক থামানো না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিধানসভার মার্শালদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, মার্শালরা কুণাল ঘোষকে বিধানসভা কক্ষের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপরই তাঁকে ওই দিনের অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করার খবর সামনে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত কি আরও বাড়ছে?

এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আখরুজ্জামান বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কুণাল ঘোষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের নেতা হিসেবে দেখা হয়। ফলে বিধানসভার ভিতরে দুই পক্ষের বিধায়কের প্রকাশ্য সংঘাত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে ফের সামনে এনে দিয়েছে।

এর আগে বিধানসভায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার পদে বসানো এবং আখরুজ্জামানের মুখ্যসচেতক হওয়ার বিষয়টিও সেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অংশ হিসেবে উঠে এসেছিল সংবাদমাধ্যমে। ফলে বুধবারের ঘটনা নিছক দুই বিধায়কের ব্যক্তিগত বচসা, নাকি দলের ভিতরে চলা বৃহত্তর সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

এখন কী আপডেট?

২২ জুলাই বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুণাল ঘোষকে বিধানসভা কক্ষ থেকে মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং দিনের অধিবেশন থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আখরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ বলে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উঠে এসেছে। তবে কুণাল ঘোষ ও আখরুজ্জামানের মধ্যে শারীরিক হাতাহাতি হয়েছে—এমন দাবি নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাই আপাতত নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিধানসভায় তীব্র বচসা, হট্টগোল, মার্শালের হস্তক্ষেপ এবং কুণাল ঘোষের সাসপেনশনের বিষয়টিই সামনে রাখা যাচ্ছে।

বিধানসভার অন্দরে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদল এবং বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া আরও সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে এই সংঘাত আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।