সোনাম ওয়াংচুকের পর এবার অনশন শুরু করলেন অভিজিৎ দীপকে!২০ দিনের অনশনের পর যন্তর মন্তর থেকে সরানো হল সোনাম ওয়াংচুককে
দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ দিনের অনশনের পর সোনাম ওয়াংচুককে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করল দিল্লি পুলিশ। বর্তমানে কেমন তাঁর শারীরিক অবস্থা, কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হল এবং আন্দোলনের সর্বশেষ আপডেট জেনে নিন বিস্তারিত।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২১ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে পুলিশ হস্তক্ষেপ করল। শনিবার সকালে হঠাৎই দিল্লি পুলিশ অনশন মঞ্চ থেকে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুককে সরিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুললেও, পুলিশের দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—ওয়াংচুকের দ্রুত অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সোনাম ওয়াংচুককে ভিএমএমসি-সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিনের অনশন, ডিহাইড্রেশন এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় কিছু সমর্থক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিরাপত্তার মধ্যেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সর্বশেষ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও তিনি অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি রয়েছেন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের প্রভাব কাটাতে তাঁকে এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের পরিবার এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর স্ত্রীর দাবি, চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা তাঁর সম্মতি নিয়েই হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কেন্দ্রের সমালোচনা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সোনাম ওয়াংচুকের এই অনশন মূলত দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। আন্দোলনের অন্যতম দাবির মধ্যে ছিল পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দায়িত্ব নির্ধারণ। তাঁর অনশনকে ঘিরে দেশজুড়ে বহু ছাত্র-যুবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।
ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও আন্দোলন থেমে যায়নি। তাঁর সমর্থক এবং আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ইতিমধ্যেই আন্দোলনের আরেক নেতা অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন এবং আগামী কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে সোনাম ওয়াংচুক দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও দুর্বলতা কাটেনি। একই সঙ্গে তাঁর অনশন ঘিরে শুরু হওয়া শিক্ষা সংস্কারের দাবির আন্দোলনও এখনও অব্যাহত রয়েছে।