৩০ জুন ভয়েস টেস্ট, এরই মধ্যে বিদেশ সফরের আর্জি! পালানোর কৌশল?

নির্বাচনী প্রচারের সময় করা একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে CID তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী সংস্থা বিধাননগর আদালতের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে এবং আগামী ৩০ শে জুন তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে।

৩০ জুন ভয়েস টেস্ট, এরই মধ্যে বিদেশ সফরের আর্জি! পালানোর কৌশল?

মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে আদালত, CID তদন্ত এবং বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন—সব মিলিয়ে তিনি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তথাকথিত "ডিজে মন্তব্য" সংক্রান্ত মামলা। নির্বাচনী প্রচারের সময় করা একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে CID তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী সংস্থা বিধাননগর আদালতের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে এবং আগামী ৩০ শে জুন তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে। তদন্তকারীদের মতে, বক্তব্যের অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এই নমুনা প্রয়োজন। 

এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্ত। অভিযোগ ওঠে যে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর তাঁদের অনুপস্থিতিতে একটি প্রস্তাবপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। সেই নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই মামলায় CID তাঁকে একাধিকবার তলব করে এবং পরে কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, বহু বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে বিশেষ চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহের বিদেশ সফর প্রয়োজন। আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিদেশযাত্রায় বিধিনিষেধ থাকায় তিনি বিচারালয়ের দ্বারস্থ হন। 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগে তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদেশ সফরের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশের কারণে তাঁর ক্ষেত্রেও বিদেশযাত্রার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়েছিল। 

তবে চোখের চিকিৎসার নামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাওয়ার আবেদনটিকে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় তদন্তের হাত থেকে বাঁচার বা 'পালিয়ে যাওয়ার' কৌশল হিসেবেই দেখছেন। বিরোধী শিবিরের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় যখন তাঁকে ইডি এবং সিআইডি লাগাতার জেরা করছে এবং আদালতে তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বিদেশ যাত্রা দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত বিচারিক রায় এখনও হয়নি। তাই রাজনৈতিক অভিযোগ এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্য—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেই ঘটনাগুলি দেখা প্রয়োজন।