মেয়ো রোডে ‘না’! ২৮ অগস্ট দুই জায়গায় দুই তৃণমূল, বড় নির্দেশ হাই কোর্টের
২৮ অগস্ট টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস। কর্মসূচিকে ঘিরে কালীঘাটপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী শিবিরের টানাপোড়েন গড়াল হাই কোর্টে। মেয়ো রোডে সভার অনুমতি নয়, দুই শিবিরকে দেওয়া হল পৃথক জায়গা। কী নির্দেশ দিল আদালত? কতজন জমায়েত করতে পারবেন? জানুন বিস্তারিত।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা, ২৫ অগস্ট: ২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। আর সেই কর্মসূচিকে ঘিরেই ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত। কে কোথায় সভা করবে, তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাটপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী শিবির। মঙ্গলবার সেই মামলায় বড় নির্দেশ দিল আদালত। মেয়ো রোডে কোনও পক্ষকেই সভার অনুমতি দেওয়া হল না।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ অগস্ট কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ক্যাথিড্রাল রোডে, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কর্মসূচি করবে। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে সভা করবে। দুই কর্মসূচির ক্ষেত্রেই একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছে হাই কোর্ট।
কী কী শর্ত দিল হাই কোর্ট?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই শিবিরের কোনও সভাতেই ১,৫০০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। কর্মসূচির সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে— দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।
দুই পক্ষকেই আগামী বুধবারের মধ্যে ২০ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের ফোন নম্বর কলকাতা পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। অনুষ্ঠানের দিন ওই স্বেচ্ছাসেবকদের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুনানির সময় দুই শিবিরের উদ্দেশে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “একযোগে অনুষ্ঠান করুন। ব্রিগেডে ১০ হাজার জমায়েতের অনুমতি দেব।” যদিও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “না, আমরা একসঙ্গে করছি না। রানি রাসমণিতে দেওয়া হোক।“
কেন হাই কোর্টে গড়াল মামলা?
প্রতি বছর ২৮ অগস্ট মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এবার দলের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে একই জায়গায় সভা করতে চেয়েছিল দুই শিবিরই। কিন্তু পুলিশি অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
কালীঘাটপন্থী শিবিরের তরফে আইনজীবী অর্ককুমার নাগ এর আগে আদালতে জানিয়েছিলেন, ২৭ জুলাই মেয়ো রোডে সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে ৩ অগস্ট এবং ৭ অগস্ট বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও অনুমতির বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়। সেই কারণেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাটপন্থী টিএমসিপি।
এর পর ঋতব্রতপন্থী শিবিরও একই জায়গায়, অর্থাৎ মেয়ো রোডে প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের অনুমতি চেয়ে আদালতে যায়। ফলে একই জায়গায় দুই পক্ষের সভার সম্ভাবনা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা এবং যান চলাচল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
শেষ পর্যন্ত কী বলল আদালত?
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত কোনও শিবিরকেই মেয়ো রোডে সভার অনুমতি দেয়নি। বরং দু’পক্ষকে পৃথক জায়গা বেছে দিয়ে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কালীঘাটপন্থী তৃণমূল — ক্যাথিড্রাল রোড, বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে।
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল — ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ।
দুই সভার ক্ষেত্রেই সর্বাধিক ১,৫০০ জন জমায়েত, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সময় এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের শর্ত রাখা হয়েছে।
২৮ অগস্টের কর্মসূচি শুধু টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, তৃণমূলের দুই শিবিরের শক্তি প্রদর্শনের দিক থেকেও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
এখন নজর ২৮ অগস্টের দিকে—আদালতের বেঁধে দেওয়া ১,৫০০ জনের সীমা মেনে কে কত বড় জমায়েত করতে পারে, সেটাই দেখার।