২০ বিদ্রোহী সাংসদকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে বড় পদক্ষেপ! এবার কি খারিজ হবে সাংসদপদ?
২০ বাগী সাংসদকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে বড় পদক্ষেপ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় ২০ জন সাংসদকে নোটিস জারি করল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। স্পিকারের পক্ষ থেকে কী জানানো হল? এখন কী হতে পারে সাংসদদের ভবিষ্যৎ? বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
মধুরিমা সেনগুপ্ত, কলকাতা, ২৫ আগস্ট: তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার সরাসরি পৌঁছে গেল দেশের শীর্ষ আদালতে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন বাগী সাংসদের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০ জন সাংসদের কাছেই জবাব চেয়ে নোটিস জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।
কী নিয়ে এই আইনি লড়াই?
২০২৬ সালের জুনে তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি এবং পৃথক আসনের দাবিও জানান। বিদ্রোহী সাংসদদের বক্তব্য ছিল, তাঁরা NCPI-তে মিশে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থন করবেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য শুরু থেকেই এই দাবির বিরোধিতা করা হয়। দলের বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদরা অন্য দলে যোগ দিলে তা সংবিধানের দশম তফসিলের অধীনে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় পড়তে পারে। এই যুক্তিতেই ১৯ জুন তৃণমূলের লোকসভা নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে আলাদা ২০টি অযোগ্যতার আবেদন জমা দেন।
স্পিকারের কাছে বারবার আবেদন, তারপর সুপ্রিম কোর্ট
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী সময়েও স্পিকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানান। ২৭ জুলাই ফের চিঠি দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানানো হয়। ১২ আগস্ট স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেও একই দাবি জানান অভিষেক।
এরপর অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অযোগ্যতার আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না। সেই বিলম্বের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ সুপ্রিম কোর্টে কী হল?
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ মামলাটি শুনেছে। শুনানির পর ২০ জন বাগী সাংসদের উদ্দেশে নোটিস জারি করে তাঁদের জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পিকারের হয়ে উপস্থিত হয়ে জানান, স্পিকার ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদকে অযোগ্যতার আবেদনের বিষয়ে নোটিস দিয়েছেন।
এই বক্তব্যের পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে দেন, শুধু নোটিস জারি হয়েছে কি না সেটিই মূল বিষয় নয়; প্রশ্ন হল, পুরো প্রক্রিয়া কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে।
অর্থাৎ, আজকের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এখনও ২০ জন সাংসদকে অযোগ্য ঘোষণা করেনি। আদালত মূলত তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে এবং অযোগ্যতার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
এখন কী হতে পারে?
এখন মামলার পরবর্তী ধাপে ২০ জন বাগী সাংসদকে সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের অবস্থান জানাতে হবে। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের সামনে চলা অযোগ্যতার প্রক্রিয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তৃণমূলের মূল দাবি, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের ভিত্তিতে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদরা NCPI-তে যোগ দেওয়াকে বৈধ রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দলীয় একীভূতকরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন। এই ‘মার্জার’ বৈধ কি না, এবং দশম তফসিলের শর্ত এখানে প্রযোজ্য কি না—তা শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আপডেট হল—২০ জন সাংসদের জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, আর স্পিকার ইতিমধ্যেই তাঁদের নোটিস দিয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। তবে সাংসদপদ খারিজের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।